বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে বিদ্যমান ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইএমএস) যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্যক্রমে ইমিগ্রেশন ফি নির্ধারণ, অর্থ সংগ্রহ ও পরিশোধ পদ্ধতি পর্যালোচনা করে উপযুক্ত আর্থিক মডেল প্রণয়নে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে গত ১৯ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত নোটিশ জারি করা হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত নোটিশে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম (এপিআইএস), প্যাসেঞ্জার নেম রেকর্ড (পিএনআর), ই-ভিসা, ই-টিএ এবং সার্বভৌম ডেটা অ্যানালিটিকস প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো আধুনিকায়ন এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নে তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন ফ্যাসিলিটেশন চার্জ, অর্থ সংগ্রহ ও রেমিট্যান্স এবং পেমেন্ট পদ্ধতি পর্যালোচনা করবে কমিটি। এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত ফি হার ও আর্থিক মডেল নির্ধারণের প্রস্তাব তৈরি করা হবে।

কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-১ অধিশাখার যুগ্মসচিবকে। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বহিরাগমন-৪ শাখার উপসচিব।

কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব এবং অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), স্পেশাল ব্রাঞ্চ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা।

নোটিশ অনুযায়ী, কমিটির তৃতীয় সভা সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি।

প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক করার পাশাপাশি ফি আদায় ও অর্থ পরিশোধের কাঠামো নির্ধারণে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন ব্যবস্থায় ফি বাড়বে কি না, সে বিষয়ে নোটিশে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।