রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে চতুর্থ দিনের মতো চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ। পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা এ কর্মসূচিতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সাজেকের রিসোর্ট-কটেজ, আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

গত ২২ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজার এলাকায় অবরোধ চলাকালে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় সেদিন সাজেকে বেড়াতে যাওয়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ির দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অবরোধকারী সংগঠন দুটি পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি, নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধের দাবিও জানিয়েছে তারা।

সংগঠন দুটির অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় উজোবাজারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, সড়কে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে এবং পর্যটকদের ভ্রমণে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাও বহাল আছে। তাঁর অভিযোগ, সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসার কোনো উদ্যোগ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সাজেকের অর্থনীতি অনেকটাই পর্যটননির্ভর। রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় দোকানপাটের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের আয় নির্ভর করে পর্যটকদের ওপর। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে বুকিং বাতিল, আয় বন্ধ ও কর্মসংস্থান সংকট আরও বাড়তে পারে।

এদিকে পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে এখনো কোনো সমঝোতার খবর পাওয়া যায়নি। ফলে সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।