বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট বড় ধরনের সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি ঘিরে এমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা দূর থেকেই আক্রান্ত সার্ভারে ক্ষতিকর নির্দেশনা চালানো, তথ্য চুরি কিংবা ম্যালওয়্যার স্থাপন করতে পারেন।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ‘পিএইচপি২শেল’ নামে পরিচিত ত্রুটি দুটি প্রকাশ্যে আসে। এগুলোর শনাক্তকরণ নম্বর CVE-2026-109618 ও CVE-2026-109619। পিএইচপি ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে ত্রুটি সংশোধনে নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রকাশ করেছে। তবে সব সার্ভারে তা ইনস্টল না হওয়ায় ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।

পিএইচপি একটি ওপেন সোর্স প্রোগ্রামিং ভাষা। ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল ও জুমলার মতো জনপ্রিয় ওয়েব প্ল্যাটফর্মেও এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে যেসব সার্ভারে সংশ্লিষ্ট ত্রুটি রয়েছে এবং নিরাপত্তা হালনাগাদ করা হয়নি, সেগুলো সাইবার হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রুটি দুটি ২০২৪ সালে প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল। সম্প্রতি নিরাপত্তা গবেষকেরা এগুলো কাজে লাগিয়ে আক্রমণের কার্যকর কৌশল বের করেন। এ ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীর কোনো লিংকে ক্লিক করা বা ফাইল খোলার প্রয়োজন ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে ক্ষতিকর কোড চালানো সম্ভব হতে পারে। সাইবার নিরাপত্তার ভাষায় একে ‘রিমোট কোড এক্সিকিউশন’ বলা হয়।

ক্যালিফ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পিএইচপির কোড পরীক্ষা করতে গিয়ে ত্রুটি দুটি শনাক্ত করেন। এ কাজে ওপেনএআই ও উইজের ‘হ্যাক দ্য প্ল্যানেট’ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষণাও যুক্ত ছিল।

এদিকে, অ্যামাজনের পর্যবেক্ষণে ১৭ অক্টোবরের দিকে ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে হামলার সম্ভাব্য কার্যকলাপের ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ওয়েবসাইট পরিচালকদের দ্রুত পিএইচপির সর্বশেষ নিরাপত্তা হালনাগাদ ইনস্টল, সার্ভারের লগ পরীক্ষা এবং অননুমোদিত প্রবেশের লক্ষণ শনাক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত করার মতো বিকল্প নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ না করলে ছোট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বড় সংস্থার ওয়েবসাইটও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য সাইবার হামলা ঠেকাতে দ্রুত নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।