সময় পরিমাপের প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন চীনের ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। পরমাণুর ইলেকট্রনের পরিবর্তে সরাসরি নিউক্লিয়াসের শক্তির পরিবর্তন কাজে লাগিয়ে তাঁরা তৈরি করেছেন নতুন ধরনের পারমাণবিক আলোকঘড়ি। গবেষকদের আশা, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সময় আরও নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাটির বিস্তারিত তথ্য।

নতুন ঘড়িটি তৈরিতে গবেষকেরা ১৪৮ দশমিক ৪ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একটি বিশেষ অতিবেগুনি লেজার ব্যবহার করেছেন। এর সাহায্যে তেজস্ক্রিয় মৌল থোরিয়াম-২২৯-এর নিউক্লিয়াসে শক্তির স্তর পরিবর্তনের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ঘটানো হয়। এই পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়েই সময় পরিমাপের ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।

গবেষণা দলের প্রধান ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তিং শিছিয়ান জানান, প্রচলিত পেন্ডুলাম ঘড়িতে দোলকের গতির মাধ্যমে সময় গণনা করা হয়। কিন্তু নিউক্লিয়ার অপটিক্যাল ঘড়িতে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের শক্তিগত পরিবর্তন সময়ের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। এ প্রক্রিয়ায় প্রতি সেকেন্ডে প্রায় দুই কোয়াড্রিলিয়ন কম্পনের সমতুল্য ছন্দ কাজে লাগানো সম্ভব।

প্রচলিত পারমাণবিক ঘড়িতে সাধারণত ইলেকট্রনের শক্তিস্তরের পরিবর্তন ব্যবহার করা হয়। তবে বাইরের চৌম্বক ক্ষেত্র ও তাপমাত্রার পরিবর্তন ইলেকট্রনের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে অত্যন্ত নির্ভুল সময় পরিমাপের জন্য এসব ঘড়িকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাখতে হয়।

গবেষকদের মতে, পরমাণুর নিউক্লিয়াস বাইরের পরিবেশের বিভিন্ন প্রভাবের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম সংবেদনশীল। তাই নিউক্লিয়াসের শক্তিগত পরিবর্তনকে কাজে লাগানো গেলে সময় পরিমাপের স্থিতিশীলতা ও নির্ভুলতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি স্যাটেলাইটের অবস্থান নির্ণয়, মহাকাশযানের নেভিগেশন এবং মহাকাশে দূরত্ব পরিমাপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।