হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার সামরিক হেলিকপ্টারে করে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর দিয়ে উড়ে যান মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান ব্র্যাড কুপার। এ সময় তিনি সামুদ্রিক মাইন অপসারণ অভিযানে নিয়োজিত মার্কিন সেনাসদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সেন্টকমের দাবি, গত ছয় মাসে মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় ৩ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করেছে। একই সময়ে ১৫০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বসানো সামুদ্রিক মাইন সরিয়ে দেওয়ার পর এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বেড়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী ৯৫ শতাংশেরও বেশি জাহাজ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছে।
তবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং শত্রুতা বন্ধসহ সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, এসব শর্ত পূরণ না হলে প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি সম্ভব নয়।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলেও তেহরানের নীতিতে পরিবর্তন আসবে না।
৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর তীব্র লড়াই কমলেও প্রণালী ও এর আশপাশে উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।

মন্তব্য করুন