সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি জানতে টাস্কফোর্সের প্রধান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহাকে প্রয়োজনীয় নথিসহ আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মো. মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী বছরের ২৭ এপ্রিল সংশ্লিষ্টদের হাজির হতে হবে। ওই দিন ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে তাঁদের বক্তব্য শুনবেন আদালত।
আদালতে সাগর-রুনির পরিবারের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ও শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এ মামলার তদন্ত থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করে।
নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্তের জন্য অতিরিক্ত সময় নেওয়া হয়। পরে মামলাটি আবারও হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের সময় তাঁদের একমাত্র ছেলে মাহির সারোয়ার মেঘ বাসায় ছিল।
এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। তাদের তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

মন্তব্য করুন