শৈশবে জীবিকার তাগিদে বাদাম বিক্রি ও জুতা পালিশ করেছেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে অক্ষরজ্ঞান অর্জন করেন। কারখানায় কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় হারান বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুল। শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ, একাধিক নির্বাচনে পরাজয়, দুর্নীতির মামলায় কারাবাস—জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আবারও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।
৮০ বছর বয়সী লুলা ব্রাজিলের রাজনীতিতে পরিচিত ‘লুলা’ নামে। প্রথম দফার ভোটে পরাজয়ের মুখে পড়লেও তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়িয়ে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া লুলার শৈশব কেটেছে অভাবের মধ্যে। সাও পাওলোর শিল্পাঞ্চলে ধাতুশ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৬০-এর দশকে দুর্ঘটনায় বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুল হারান। পরে শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত হয়ে ১৯৭৫ সালে ধাতুশ্রমিক ইউনিয়নের নেতা নির্বাচিত হন।
১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ার্কার্স পার্টি (পিটি)। ২০০২ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হন। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ‘বলসা ফ্যামিলিয়া’সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি চালু করেন।
তবে দুর্নীতির মামলায় ২০১৭ সালে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যেতে হয় তাকে। ২০১৯ সালে মুক্তি এবং ২০২১ সালে আদালতের রায়ে দণ্ডাদেশ বাতিলের পর রাজনীতিতে ফেরেন। ২০২২ সালে জাইর বলসোনারোকে হারিয়ে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হন।
এবারের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনে পরিবেশনীতি, তেল অনুসন্ধান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং চীন-রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
শ্রমিক থেকে রাষ্ট্রপ্রধান—লুলার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ব্রাজিলের ইতিহাসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

মন্তব্য করুন