ঢাকা
২৭ আগস্ট ২০২৬

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম বড় সুযোগ নতুন বাজেট, মূল্যায়ন সিপিডির

নিজস্ব প্রতিবেদক
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬   ৩৩ বার পঠিত
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম বড় সুযোগ নতুন বাজেট, মূল্যায়ন সিপিডির

ছবি: -সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সরকারের জন্য ‘প্রথম বড় সুযোগ’ হিসেবে দেখছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বর্তমান বাজেট এমন এক সময়ে উপস্থাপন করা হয়েছে যখন অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের ঘাটতি, রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা এবং ব্যাংকিং খাতের চাপ অর্থনীতিকে সংকটাপন্ন অবস্থায় নিয়ে গেছে। এর সঙ্গে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তিনি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে বাজেটটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক অর্থনীতি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। বাজেটের মূল দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ সংস্থাটির অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সিপিডির মতে, বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর যে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা অনেকাংশে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বাজেটের সাফল্য এর আকারের ওপর নয়, বরং বাস্তবায়নের মানের ওপর নির্ভর করবে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়নে দুর্বলতা থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।

সিপিডির ভাষ্য, বাজেট সফল করতে হলে প্রয়োজন শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান, যারা দক্ষতার সঙ্গে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং জনগণের কাছে দৃশ্যমান সুফল পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।

গতকাল জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

বাজেটে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিপিডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই বাজেট শুধু একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়; এটি নতুন সরকারের জন্য অর্থনৈতিক নেতৃত্বেরও পরীক্ষা। সরকার যদি বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

August 2026
SMTWTFS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031