https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ভোতি কোশি নদীর পানির প্রবল স্রোতে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালের সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলা এবং চীনের তিব্বত অঞ্চলে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেপাল ও তিব্বতের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি নাগরিক। নেপালের পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৭৭ জন ভারতীয়, ৬৩ জন মার্কিন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ এবং ২৫ জন কানাডীয় নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার পর বিস্তীর্ণ এলাকায় জমে থাকা কাদা ও পাথরের স্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান জোরদার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে রয়টার্সকে বলেন, উদ্ধারকারীরা আবারও তল্লাশি শুরু করেছেন। ফলে আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতে ভোতি কোশি নদীর আকস্মিক বন্যায় ৫৫৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিব্বতে নিখোঁজ সবাই গিরং জেলার বাসিন্দা বা সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে জানানো হয়েছে। ভোতি কোশি নদীর হড়পা বান গিরং জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
বিভিন্ন যাচাইকৃত ভিডিওতে গিরংয়ের একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে পানির তীব্র স্রোত ও ধ্বংসাবশেষে বহু মানুষ ভেসে যেতে দেখা গেছে। একই স্রোত ভাটির দিকে নেপালে গিয়ে বাড়িঘর, সড়ক ও একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
বন্যা থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও স্ত্রীকে হারিয়েছেন নেপালের ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বরাল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রয়টার্সকে জানান, হঠাৎ বিশাল কাদার স্রোত তাদের বাড়ির দিকে ধেয়ে আসে। স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করলেও স্রোতে তিনি ভেসে যান।
প্রায় চার ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার এসে বাড়ির ছাদ থেকে কেশবকে উদ্ধার করে। তবে তার স্ত্রীকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কেশব বলেন, তার স্ত্রী এখনো কাদার নিচে কোথাও চাপা পড়ে আছেন। তাকে বাঁচাতে না পারার আক্ষেপও জানান তিনি।