https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া রায়ের ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার প্রকাশিত এ রায়ে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ, অপরাধের বিশদ বিবরণ, আসামিদের দায় নির্ধারণ এবং শাস্তি প্রদানের যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী-এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, পাঁচজনকে ১০ বছর, আটজনকে পাঁচ বছর এবং ১১ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া একজনের হাজতবাসকে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম নয়ন এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় মাধব।
১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান, গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল এবং ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া। ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, তারা সবাই বর্তমানে পলাতক।
পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, ছাত্রলীগ নেতা এমরান চৌধুরী, মাসুদুল হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মাহাবুবার রহমান এবং চিকিৎসক সারোয়ার হোসেন।
তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জনের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মী।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেলের হাজতবাসকে সাজার মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে বলে গণ্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনাল ঘটনাটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে সংশ্লিষ্টদের দায়, ভূমিকা ও অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।