ঢাকা
২৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে গত দুই বছর আন্ডারমাইনিং করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২৭ হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে প্লাবনের শঙ্কা আসামিদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত রংপুর আইনজীবী সমিতির ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আরেক ছিনতাইকারী নিহত ঢাকার যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাসসহ প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা ৩১ ঘণ্টার যানজটের পর ধীরে চলছে গাড়ি, এখনো ভোগান্তি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৪ ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ হাসনাত আবদুল্লাহর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে নীতিগত সংস্কারে জোর দেওয়ার পরামর্শ সিপিডির

নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬   ২৪ বার পঠিত
বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে নীতিগত সংস্কারে জোর দেওয়ার পরামর্শ সিপিডির

ছবি: -সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও এ খাতের টেকসই উন্নয়নে বরাদ্দের চেয়ে নীতিগত সংস্কারে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর ছাড়, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) ব্যবহারে প্রণোদনা এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সংস্থাটি বলছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রকৃত অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হলে জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার এবং জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

রাজধানীতে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাজেট বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে সিপিডি জানায়, আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার বড় অংশই বিপিডিবির লোকসান সমন্বয়ে ব্যয় হবে। উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ ক্রয়, আইপিপি ও রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে আর্থিক চাপ অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, ভর্তুকি কমানোর নামে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করে তার চাপ সাধারণ গ্রাহকের ওপর না চাপানোর নীতি অনুসরণ করা উচিত। বরং ক্যাপাসিটি পেমেন্ট হ্রাস এবং উৎপাদন ব্যয় যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে খাতটির আর্থিক স্থিতিশীলতা আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে কিছু কর সুবিধাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সিপিডি বলছে, মোট উন্নয়ন বরাদ্দের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ এ খাতে যাচ্ছে, যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পে প্রায় ৯৮ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে। এতে সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়, বিদ্যমান ১১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প অনুমোদন না পাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর গতি ধীর হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বৃহৎ সৌর প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া এলএনজি ও কয়লা আমদানিতে বিদ্যমান কর ও শুল্ক সুবিধা অব্যাহত থাকায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টা দুর্বল হচ্ছে বলে মনে করে সিপিডি।

গ্রিড অবকাঠামোর দুর্বলতাকে বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে সংস্থাটি জানায়, ট্রান্সফরমার, কন্ডাক্টর ও অন্যান্য গ্রিড সরঞ্জামের ওপর উচ্চ করহার নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংযোগকে ব্যাহত করছে।

বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) ব্যবহারে কর সুবিধা ও প্রচলিত যানবাহনে কর বৃদ্ধি নীতিগতভাবে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করা হলেও কৃষিখাতে সৌর সেচ ব্যবস্থার সীমিত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সিপিডি বলেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়; বরং নীতিগত সংস্কার, গ্রিড আধুনিকায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ এবং সমন্বিত গ্রিন এনার্জি নীতি বাস্তবায়ন জরুরি।