https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রসিকতার ছলে নিজেকে ‘বস’ বলে উল্লেখ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। তবে সম্মেলনের মূল গুরুত্ব ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা এবং চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু।
সম্মেলনে জি-৭ নেতারা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার অঙ্গীকার করেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ইউক্রেনকে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় আরও শক্তিশালী অবস্থান এনে দিতে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে দাবি করেন, ইউক্রেনের প্রতিরোধ কার্যক্রম ইতোমধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে এবং রাশিয়া আর একতরফাভাবে শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে নেই।
সম্মেলনে ট্রাম্পের বক্তব্যেও ইউক্রেন প্রসঙ্গে কিছুটা ভিন্ন সুর দেখা যায়। তিনি বলেন, এই যুদ্ধে রাশিয়া ইউক্রেনের তুলনায় বেশি সেনা হারিয়েছে এবং রাশিয়াকে সংঘাতের আক্রমণকারী পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা ট্রাম্পের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখার কথা জানান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে জি-৭। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাবের মতো জটিল বিষয়গুলোর সমাধান কঠিন হতে পারে।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত নয়। ইরান শর্ত না মানলে প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সম্মেলনে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে নেতারা একমত হন।
এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার, এর দায়বদ্ধতা এবং ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা এ আলোচনায় অংশ নেন এবং ভবিষ্যৎ নীতিমালা নিয়ে মতামত দেন।