ঢাকা
২৭ আগস্ট ২০২৬

আবার ‘জিরো ওয়েটিং টাইমে’ চট্টগ্রাম বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬   ৩০ বার পঠিত
আবার ‘জিরো ওয়েটিং টাইমে’ চট্টগ্রাম বন্দর

ছবি: -সংগৃহীত

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর আবারও ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন করেছে। ফলে বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যে নেমে এসেছে, যা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিং, রাজস্ব আয় এবং পরিচালন দক্ষতায় একাধিক নতুন রেকর্ড গড়েছে বন্দরটি।

বুধবার (১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদায়ী অর্থবছরে বন্দরে মোট ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭.১৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা ৫.৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। এছাড়া জাহাজ হ্যান্ডলিং বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৩৬টিতে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৬.৩৫ শতাংশ বেশি।

আর্থিক সূচকেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং সরকারকে কর হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৯৬০ কোটি ৪ লাখ টাকা। কর-পরবর্তী উদ্বৃত্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

পরিচালন দক্ষতার ক্ষেত্রেও এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। কনটেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থানকাল ২.৫৮ দিন থেকে কমে ২.৩৮ দিনে নেমে এসেছে। এতে জাহাজের অপেক্ষার সময় প্রায় ৭.৭৫ শতাংশ কমেছে, যা শিপিং কোম্পানির ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও মুখপাত্র মো. নাসির উদ্দিন জানান, বন্দরের সব গেটে শতভাগ ই-গেট পাস চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ই-ডেলিভারি অর্ডার (ই-ডিও), অনলাইন এনওসি, ই-চালান, কার্ট টিকিট এবং ওয়ান-স্টপ ডকুমেন্টেশনসহ বিভিন্ন সেবা সম্পূর্ণ কাগজবিহীন করা হয়েছে। এনবিআরের এসকুয়াডা ওয়ার্ল্ড এবং বন্দরের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টস) মধ্যে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদান চালু হওয়ায় সেবার গতি ও স্বচ্ছতা আরও বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, ‘সিপিএ স্কাই’ নামে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কাস্টমস, ব্যাংক, শিপিং এজেন্ট ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষায় আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জনের ফলে এখন বহির্নোঙরে কোনো জাহাজকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। এতে পণ্য খালাস ও বোঝাইয়ের সময় কমছে, শিপিং কোম্পানির পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাচ্ছে এবং আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক উভয়ই দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। ঈদের ছুটির সময়ও ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু রেখে এই সক্ষমতা বজায় রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের আন্তর্জাতিক পরিদর্শনে চট্টগ্রাম বন্দর ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে। পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত নজরদারির ফলে বহির্নোঙরে ডাকাতি ও চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৪০ সালের মধ্যে কার্গো হ্যান্ডলিং ৩০৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং ৮.৭ মিলিয়ন টিইইউসে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন কনটেইনার টার্মিনাল, বে টার্মিনাল, হেভি লিফট কার্গো জেটি এবং বহুমুখী পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, সর্বশেষ অর্থবছরের অর্জনগুলো আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর বন্দর ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন। ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যে নামিয়ে আনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য আরও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে।

August 2026
SMTWTFS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031