টাইব্রেকারে শক্তিশালী জার্মানিকে বিদায় দিয়ে বিশ্বকাপে অন্যতম বড় চমক দেখিয়েছে প্যারাগুয়ে। তবে সেই উচ্ছ্বাস কাটতে না কাটতেই তাদের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এবার প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স।
বাংলাদেশ সময় আজ (শনিবার) দিবাগত রাত ৩টায় ফিলাডেলফিয়ায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত শতভাগ জয় নিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স। আক্রমণ, গতি ও দলগত সমন্বয়ে অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের চোখে এবারের আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দলও তারাই।
তবে প্রতিপক্ষকে নিয়ে ভীত নয় প্যারাগুয়ে। দেশটির ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যম এবিসি এই ম্যাচকে দেখছে ‘ইতিহাস গড়ার আরেকটি সুযোগ’ হিসেবে। জার্মানিকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত দলটি এবারও চমক দেখাতে পারে বলে বিশ্বাস তাদের।
সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, এই দল বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে তারা কী করতে পারে। এমবাপ্পেদের মতো পরাশক্তিকে হারানোর মিশন এখন শুধু একটি ম্যাচ নয়, এটি নতুন ইতিহাস লেখার লড়াই।
জার্মানির বিপক্ষে শেষ ষোলোর আগের ম্যাচে দারুণ লড়াই উপহার দেয় প্যারাগুয়ে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে হুলিও এনসিসোর গোলে এগিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে কাই হাভার্টজ সমতা ফেরালে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে জার্মানদের একের পর এক আক্রমণ সামলে নেয় প্যারাগুয়ের রক্ষণ। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে জয়ের নায়ক হন গোলরক্ষক অস্কার গিল।
আজকের ম্যাচটি প্যারাগুয়ের জন্য শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, এটি ২৮ বছর আগের এক কষ্টের স্মৃতির প্রতিশোধ নেওয়ারও সুযোগ।
১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের বিপক্ষেই বিদায় নিতে হয়েছিল প্যারাগুয়েকে। অতিরিক্ত সময়ে লরাঁ ব্লাঁর করা বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ‘গোল্ডেন গোল’-এ ১-০ ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল আলবিরোজাদের। সেই আসরেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউটে মুখোমুখি দুই দল। এবার কি ফরাসি দুর্গ ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখবে প্যারাগুয়ে, নাকি এমবাপ্পেদের দুরন্ত যাত্রা অব্যাহত থাকবে—তার উত্তর মিলবে আজ রাতেই।

মন্তব্য করুন