২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আরও একটি দিক থেকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল আর্জেন্টিনা। ফিফার প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে সবার ওপরে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল স্কালোনির দল কখনো কখনো কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ফিরে এসে জয় নিশ্চিত করতে হয়েছে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে নিজেদের ফুটবল দর্শন থেকে একচুলও সরে যায়নি আলবিসেলেস্তেরা।

ফিফার পরিসংখ্যান বলছে, আক্রমণভাগের কার্যকারিতা, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং নিখুঁত পাসিং—এই তিন ক্ষেত্রেই অন্য সব দলকে ছাড়িয়ে গেছে আর্জেন্টিনা।

গোলের হিসেবে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৪টি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। এই সাফল্যে সবচেয়ে বড় অবদান অধিনায়ক লিওনেল মেসির। আট গোল নিয়ে তিনি বর্তমানে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানে রয়েছেন।

তবে আর্জেন্টিনার প্রকৃত শক্তি ফুটে উঠেছে পাসিং পরিসংখ্যানে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৪৪৬টি সফল পাস সম্পন্ন করেছে স্কালোনির দল। এ তালিকায় ৩ হাজার ৩৮২টি পাস নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন, আর ৩ হাজার ১২৬টি পাস নিয়ে তৃতীয় স্থানে মরক্কো।

শুধু পাসের সংখ্যাতেই নয়, পাসের সফলতার হারেও শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা। দলটির সফল পাসের হার ৯১ শতাংশ। একই সফলতার হার স্পেনেরও থাকলেও মোট পাসের সংখ্যায় এগিয়ে থাকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। এদিকে ৮৯ শতাংশ সফল পাস নিয়ে এই তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মরক্কো।

এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, আর্জেন্টিনা শুধু বলের দখলই ধরে রাখছে না, বরং খুব কম ভুল করে কার্যকরভাবে আক্রমণ গড়ে তুলছে। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা এবং ধৈর্য ধরে আক্রমণ সাজানোই লিওনেল স্কালোনির কৌশলের মূল বৈশিষ্ট্য, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে পরিসংখ্যানে।

পরিসংখ্যানে আধিপত্য বিস্তার করা চারটি দল—আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও মরক্কো—এখনও বিশ্বকাপে টিকে রয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে দলগুলো।