জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই এডিপি প্রণয়ন করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এনইসি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত এডিপির মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে। সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন এডিপির আকার প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
নতুন এডিপিতে ১ হাজার ২৭৭টি নতুন প্রকল্পের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি পিপিপি ভিত্তিক ৮০টি এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ১৪৮টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব রয়েছে। সরকার বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এডিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খাতভিত্তিক বরাদ্দে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকার বেশি পেয়েছে। এরপর রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাত। এই পাঁচ খাতেই মোট বরাদ্দের ৬২ শতাংশের বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ পেয়েছে।
দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তায় সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য ১৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, সবুজ প্রবৃদ্ধি, নীল অর্থনীতি ও সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নকে নতুন এডিপিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, এসডিজি, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ), এনডিসি এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।