বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই আর্জেন্টিনার জন্য ফাইনালের টিকিট—এমনই বলছে ইতিহাস। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে শেষ চারে ওঠার পর এখন পর্যন্ত একবারও হারেনি আলবিসেলেস্তেরা। প্রতিবারই তারা জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে।

চলমান বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। অন্যদিকে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আগামী বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২০ বার অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনা ছয়বার সেমিফাইনালে উঠেছে। এর আগে পাঁচটি সেমিফাইনালের প্রতিটিতেই জয় পেয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দলটি।

১৯৩০ বিশ্বকাপে প্রথম সেমিফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। এরপর ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার জোড়া গোলে বেলজিয়ামকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে।

১৯৯০ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ইতালির বিপক্ষে সেমিফাইনাল ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। গোলরক্ষক সার্জিও গয়কোচিয়ার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে সেবার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়।

দীর্ঘ ২৪ বছর পর ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোলশূন্য ম্যাচ শেষে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পেয়ে আবারও ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো।

সবশেষ ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে পরে ফাইনালে জয় তুলে নিয়ে ৩৬ বছরের শিরোপা-খরা ঘোচায় দলটি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ বিশ্বকাপে বর্তমানের মতো সেমিফাইনাল পর্ব ছিল না। সে সময় দ্বিতীয় গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে সরাসরি ফাইনালে উঠে স্বাগতিক আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতেছিল।

এবার ইতিহাসের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। জিততে পারলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে লিওনেল স্কালোনির দল।