https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব ও সাপেকাটা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশের সব জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) সরবরাহ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে এখন সাপে কাটা রোগীরা নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন পাবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি) জানায়, বর্ষা শুরুর আগেই বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যাতে সাপেকাটা রোগীদের দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সাপের ছোবলের শিকার হন। এর মধ্যে ২৫ থেকে ২৭ লাখ মানুষের শরীরে বিষ প্রবেশ করে এবং প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া প্রায় ৫ লাখ মানুষ স্থায়ীভাবে অক্ষম বা পঙ্গুত্বের শিকার হন। আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। তাদের মধ্যে ৭ হাজার ৫১১ জন মারা যান। সাপের কামড়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বিষাক্ত এবং আক্রান্তদের প্রায় ৯৫ শতাংশই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। নারীদের তুলনায় পুরুষদের সাপে কামড়ানোর ঝুঁকি প্রায় ১ দশমিক ৪ গুণ বেশি।
গবেষকদের মতে, বর্ষাকালে বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় এবং বন্যাপ্রবণ এলাকায় সাপের কামড়ের ঘটনা বেশি ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে দুর্গম এলাকা থেকে হাসপাতালে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ১৮৯৫ সালে ফরাসি চিকিৎসক আলবার্ট কেলমেট অ্যান্টিভেনম আবিষ্কার করার পর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ সাপেকাটা রোগীর প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে। তবুও বাংলাদেশে কুসংস্কারের কারণে এখনও অনেক পরিবার হাসপাতালে না গিয়ে ওঝা বা কবিরাজের শরণাপন্ন হয়, যা রোগীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৯৪ প্রজাতির সাপ রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি বিষধর এবং ৬৮টি অবিষধর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব।