https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলনের উত্তাপের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে রাস্তায় নামেন দলের চেয়ারপারসন ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতার মেয়ো রোডে পৃথকভাবে শহীদ দিবসের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ফলে ২১ জুলাইকে ঘিরে কলকাতাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মমতা ব্যানার্জী অভিযোগ করেন, শহীদ দিবসের সভামঞ্চে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার (২০ জুলাই) গভীর রাতে তিনি নিজেই কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে নির্মিত সভামঞ্চে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী।
কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দাবি করে, রাতের অন্ধকারে বিজেপির কর্মীরা সভামঞ্চে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। দলের অভিযোগ, মঞ্চের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তৃণমূলের ভাষ্য, এটি শুধু একটি মঞ্চে হামলার ঘটনা নয়; বরং গণতান্ত্রিক অধিকার ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের অনুভূতির ওপর পরিকল্পিত আঘাত।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মমতা ব্যানার্জী বলেন, সন্ধ্যায় তারা মঞ্চ পরিদর্শন করে গিয়েছিলেন। পরে খবর পেয়ে আবার সেখানে ছুটে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্ষাকালের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মী-সমর্থকদের কলকাতায় আসতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি শহীদ পরিবারের সদস্যদের বাড়িও পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মমতা বলেন, শহীদদের স্মরণ করার অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুতের লাইন ও মাইকের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে এবং পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপির ৬০ থেকে ৬৫ জনের একটি মোটরসাইকেল বহর হামলায় অংশ নেয় এবং একজন অসামাজিক ব্যক্তি এর নেতৃত্ব দেন, যিনি আদালতের নির্দেশে জামিনে রয়েছেন।
মমতা ব্যানার্জী আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগে থেকেই কর্মসূচি নস্যাৎ করার পরিকল্পনা চলছিল। তার ভাষ্য, পুলিশ ও বিজেপির কর্মীদের ব্যবহার করে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাকে বের হতে দেওয়া হচ্ছিল না, কার্যত নজরবন্দি করে রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অভিষেক ব্যানার্জী ও কল্যাণ ব্যানার্জীর ওপরও হামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিজেপির পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।