https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ভারতের কর্নাটক অঙ্গরাজ্যে আনুমানিক ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত, যা দেশটির উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ রাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার জন অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) পাচ্ছেন, ফলে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ চিকিৎসার আওতার বাইরে রয়েছেন।
ন্যাশনাল এইডস কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের (ন্যাকো) ২০২৪ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণ শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতা বাড়াতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের লক্ষ্য করে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কর্নাটক সরকার। ‘মোবিলাইজেশন ফর এইডস সুরক্ষা’ কর্মসূচির আওতায় কিউআর কোড স্ক্যান করে গোপনীয়ভাবে এইচআইভির ঝুঁকি মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচআইভি আক্রান্ত অনেকের শরীরে দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তাই সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গুরুগ্রামের ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ ড. নেহা রাস্তোগি জানান, অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক, সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, ব্যবহৃত সুই বা সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করা এবং গর্ভাবস্থা, প্রসব বা মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে মা থেকে সন্তানের শরীরে এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে। তবে হাত মেলানো, আলিঙ্গন, একসঙ্গে বসবাস বা একই খাবার খাওয়ার মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায় না।
তিনি আরও বলেন, এইচআইভি প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি, যা শুধু একটি রাজ্য নয়, পুরো ভারতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, বিশ্বব্যাপী এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘের ‘৯৫-৯৫-৯৫’ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চলছে। এর লক্ষ্য হলো—৯৫ শতাংশ আক্রান্ত ব্যক্তি যেন নিজের সংক্রমণের বিষয়টি জানতে পারেন, তাদের ৯৫ শতাংশ চিকিৎসার আওতায় আসেন এবং চিকিৎসাধীনদের ৯৫ শতাংশের ভাইরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ইউএনএইডসের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিমা দেশগুলোকে ২০৩০ সালের মধ্যে এইচআইভি মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য অর্জনে গত ২৫ বছরের অগ্রগতিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।