https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে থানায় নিতে গিয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয়েছে পুলিশকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে কৌশলে অভিযুক্তকে সরিয়ে নেয় পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ পিছু হটে অবস্থান নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত আটটার দিকে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরে ফাঁকা গুলি ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়।
শিশুটির এক আত্মীয় বলেন, “আমরা ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। তাকে পুলিশের হাতে ছেড়ে দিতে চাই না।”
রাত সোয়া ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তকে একটি ভবন থেকে বের করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপরও স্থানীয় লোকজন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা হলেও অভিযুক্ত পরে জামিনে বেরিয়ে আসতে পারে এবং বিচারপ্রক্রিয়াও দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে পারে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, আত্মরক্ষার্থে টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে এবং কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।