কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় নিরাপত্তা হারনেস থেকে ছিটকে পড়ে শৌভিক রায় (২৮) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে দরিয়ানগর এলাকায় সি স্পোর্টস পরিচালিত প্যারাসেইলিং পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শৌভিক রায় খুলনা জেলার বাসিন্দা। তিনি নয় সদস্যের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্যারাসেইলিং চলাকালে হঠাৎ নিরাপত্তা হারনেস থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে গুরুতর আহত হন শৌভিক। পরে সি স্পোর্টসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় সৈকতে প্যারাসেইলিং কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২০ মে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের সময় এক পর্যটক দম্পতি সমুদ্রে ছিটকে পড়ে আহত হন। একই বছর আরেক ঘটনায় এক নারী পর্যটকও সমুদ্রে পড়ে আহত হন। দুটি ঘটনার পরই নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন।

এছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে এক পর্যটক ঝাউগাছের ডগায় আটকে দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই ঘটনার পরও সাময়িকভাবে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্যারাসেইলিং পরিচালিত হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে। একের পর এক দুর্ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর, নিয়মিত সরঞ্জাম পরীক্ষা, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়। নিরাপত্তা মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ রেখে নতুন নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানান তিনি।