স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়লেও সীমানা–সংক্রান্ত জটিলতায় ভোট আয়োজন পিছিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। সরকার সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের দিকে নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিলেও এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি শেষ হয়নি।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সরকারের হলেও ভোট পরিচালনার কাজ করে কমিশন। তাই নির্বাচনের আগে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনকে চিঠি দিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমানা নির্ধারণ না হলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা সম্ভব হবে না।

দলীয় প্রতীকে নির্বাচন বাতিল হওয়ায় এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ভোট হবে। সে কারণে নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণবিধিও নতুনভাবে সংশোধন করতে হবে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আইন সংস্কার কমিটি কাজ করছে।

বর্তমানে ১২টি সিটি করপোরেশন, প্রায় ৪৫০ উপজেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা, প্রায় ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১ জেলা পরিষদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে আরও প্রায় ২ হাজার ৮০০ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

তবে নতুন গঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের সীমানা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকারগুলোর সীমানা নিয়ে সম্ভাব্য আইনি জটিলতা নির্বাচনের পথে বাধা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে নতুন আইনের গেজেট এখনো না পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন বিধিমালা সংশোধনের কাজও শেষ করতে পারেনি। সম্ভাব্য সংশোধনীর মধ্যে রয়েছে ইভিএম ব্যবহার বাদ দেওয়া, পোস্টারবিহীন প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, জামানত বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শেষে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

তিনি আরও জানান, বাজেট অনুমোদনের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তফসিল ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেই প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সীমানা জটিলতা ও আইনি সমস্যাগুলোর সমাধান হলে মাত্র ৪৫ দিনের প্রস্তুতিতেই তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।