https://timenewsbangla.com

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লোডশেডিং চলছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন একটি ১৮ সেকেন্ডের ভিডিও নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানবন্দরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি লোডশেডিংয়ের চিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দুটি পৃথক বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন রয়েছে।
এর মধ্যে কোনো একটি লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে অটোমেটিক ট্রান্সফার সুইচ (এটিএস)-এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ এক সেকেন্ডের মধ্যে বিকল্প লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, পিডিবির দুটি লাইনে একই সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। গত কয়েক মাসে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্য কোনো কারণে পিডিবির দুটি লাইনই সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রয়োজন হলে বিমানবন্দরের নিজস্ব জেনারেটরের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নির্দেশনা অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা ১৬ সেকেন্ড।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, লোডশেডিংয়ের কারণে এখন পর্যন্ত বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা সৃষ্টি হয়নি।
বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল সরঞ্জামগুলোও আলাদা বিদ্যুৎ ব্যাকআপ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। রাডার, নেভিগেশনাল সরঞ্জাম, ভিএইচএফ যোগাযোগব্যবস্থা, রানওয়ে লাইটিং সিস্টেম এবং ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির জন্য স্বতন্ত্র ব্যাটারি ব্যাকআপ ও ইউপিএস ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক কোনো পরিবর্তন হলেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক অপারেশনে বিঘ্ন ঘটার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিমানবন্দরে নতুন দুটি জেনারেটর স্থাপনের কাজ বর্তমানে চলমান। এ কাজসহ বিভিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে মাঝে মাঝে পিডিবির বিদ্যুৎ লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রয়োজন হয়। এমন পরিস্থিতিকে কেউ কেউ লোডশেডিং হিসেবে বুঝে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে লোডশেডিংজনিত সমস্যা নয় বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতেই বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
কর্তৃপক্ষ বলেছে, সর্বোচ্চ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ নিশ্চিত করাই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।