ঢাকা
২১ আগস্ট ২০২৬

সন্ত্রাসবাদ-সাইবার হামলা মোকাবিলায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬   ১১ বার পঠিত
সন্ত্রাসবাদ-সাইবার হামলা মোকাবিলায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার

সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হামলা, ড্রোন ও বিস্ফোরকসহ বেসামরিক বিমান চলাচলে সম্ভাব্য বিভিন্ন নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরগুলোর সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে নেওয়া পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে বেসামরিক বিমান চলাচল হুমকি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন কমিটির (ক্যাট্রাক) দ্বিতীয় সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্যাট্রাকের সভাপতি ও বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। এতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর এবং পুলিশের বিশেষ শাখার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে বর্তমান ও উদীয়মান নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করা হয়। সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হামলা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাঝুঁকি, বিস্ফোরক ও ড্রোন হামলার মতো বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাত নানা ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব হুমকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়নে ক্যাট্রাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে কমিটির কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

আসন্ন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিরীক্ষার বিষয়টিও সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। নিরীক্ষা সামনে রেখে ঝুঁকি মূল্যায়ন, তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাইবার নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব

সভায় বিমানবন্দরগুলোর সাইবার নিরাপত্তাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ফিশিং, পাসওয়ার্ড চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ এবং যাত্রী ও ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্য চুরির মতো সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বেবিচকের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

সভায় জানানো হয়, জাতীয় বেসামরিক বিমান নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিমান পরিবহন নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সাইবার নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচলের সাইবার নিরাপত্তা নির্দেশনা জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা নিরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। দেশের বিমানবন্দরগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার কাছ থেকে নিয়মিত নির্দেশনা নেওয়ার বিষয়টিও সভায় জানানো হয়।

উচ্চঝুঁকির উড়োজাহাজ তল্লাশিতে নতুন উদ্যোগ

সভায় উড়োজাহাজ তল্লাশির প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত উড়োজাহাজের তালিকা প্রণয়নের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, কার্যকর ঝুঁকি মূল্যায়ন, যথাযথ তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম আসন্ন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিরীক্ষা সফলভাবে মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সমাপনী বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সময়োপযোগী তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গঠনমূলক মতামতের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ক্যাট্রাকের পরবর্তী সভা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

August 2026
SMTWTFS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031