ঢাকা
২৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ হাসনাত আবদুল্লাহর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার ব্যাগ ধরে টান ছিনতাইকারীর, রিকশা থেকে পড়ে প্রাণ গেল প্রধান শিক্ষিকার এক ধাক্কায় ভরিতে সোনার দাম কমল ৭ হাজার ১১৬ টাকা নেপালে বন্যায় নিহত প্রায় ৬০০, নিখোঁজ ১,৯২৪ হরমুজ প্রণালিতে ৪০০ জাহাজ, আটকা প্রায় ৬ হাজার নাবিক মক্কা চুক্তি নিয়ে নজর রাখছে দিল্লি : রণধীর জয়সোয়াল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ২৫০ মাইল দূরেও মিলছে মরদেহ, মর্গে তীব্র সংকট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ হাসনাত আবদুল্লাহর

নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬   ২ বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ হাসনাত আবদুল্লাহর

ছবি: -সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি দুঃখিত।

তিনি দাবি করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধের ঘটনাটি গণমাধ্যমে যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তব চিত্র তার চেয়ে ভিন্ন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন।

হাসনাত বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেয়নি; তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিল। তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ—এমন ধারণা সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নৌকাবাইচের প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্যে তথ্যগত ভুল হয়েছিল উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, তিনি সিলেটের পরিবর্তে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম বলেছিলেন। এ কারণে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে তিনি বিব্রত এবং দুঃখিত।

তবে সংসদে মূল ঘটনা ও গণমাধ্যমে সেটির উপস্থাপন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি। সম্পূরক প্রশ্নে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানান।

জুলাইয়ের আদর্শের প্রতি নিজের ও দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ অন্যের ওপর নিজের মতামত চাপিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। এখানে মসজিদ, মন্দির, সংগীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব—সবই থাকবে। যার যে বিষয় পছন্দ, তিনি তাতে অংশ নেবেন; অপছন্দ হলে অংশ নেবেন না। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে।

হাসনাত আরও বলেন, জুলাই ছিল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিনির্বিশেষে সবার আন্দোলন। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে একটি সর্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল সেই আন্দোলনের লক্ষ্য।

এর আগে সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। কর্মসূচি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা করতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট ও নৌকাবাইচ বন্ধের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন।