https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ক্রিকেটে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে ব্যাটারকে আউট দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার পর সেই ব্যাটারই আবার ক্রিজে ফিরে এসে দলকে জেতানোর ঘটনা নিঃসন্দেহে বিরল। ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) এমনই এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব।
সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস ও বার্বাডোস ট্রাইডেন্টসের ম্যাচে এই ঘটনা ঘটে। প্যাট্রিয়টসের উইকেটকিপার-ব্যাটার জনসন চার্লসকে প্রথমে ক্যাচ আউট দেন আম্পায়াররা। কিন্তু পরে দেখা যায়, তাকে আউট করা বলটি ছিল কোমরের উচ্চতার ওপরে থাকা ফুলটস—অর্থাৎ নো বল।
বার্বাডোসের বাঁহাতি পেসার র্যামন সিমন্ডসের বলে ক্যাচ তুলে দেন চার্লস। অন-ফিল্ড আম্পায়াররা প্রথমে নো বলের সংকেত না দেওয়ায় চার্লস মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরে টিভি আম্পায়ার কার্ল টাকেট রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন। তিনি জানান, বলটি নো বল ছিল এবং চার্লস নটআউট।
ততক্ষণে অবশ্য চার্লস মাঠের সীমানা পেরিয়ে ড্রেসিংরুমের পথে চলে গিয়েছিলেন। ক্রিকেটের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ভুল করে আউট দেওয়া হলেও ব্যাটার মাঠের সীমানা অতিক্রম করার আগে সিদ্ধান্ত সংশোধন করে তাকে ফিরিয়ে আনা যায়। চার্লস তখন মাঠ ছেড়ে যাওয়ায় তাকে পুনরায় ব্যাটিংয়ে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।
তারপরও চার্লসকে ক্রিজে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। বার্বাডোস ট্রাইডেন্টসের অধিনায়ক ক্রিস গ্রিন এবং ক্যাচ নেওয়া শেরফেন রাদারফোর্ড এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে আম্পায়াররা সিদ্ধান্ত আর পরিবর্তন করেননি।
এরপর ঘটনার নাটকীয়তা আরও বাড়ে। ওই নো বলের ফ্রি-হিটে ছক্কা হাঁকান চার্লস। ম্যাচের চতুর্থ ওভারে আউট হওয়ার সময় ১৫ বলে ২৬ রান করেছিলেন তিনি। ফিরে এসে মাত্র ৪৫ বলে ৭৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটার।
চার্লসের ঝোড়ো ইনিংসে ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৬ উইকেটে জয় পায় সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস। অর্থাৎ যে ব্যাটারকে একবার আউট করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই চার্লসই দলকে জয়ের পথে বড় ভূমিকা রাখেন।
ঘটনাটি নিয়ে ম্যাচ শেষে অসন্তোষ প্রকাশ করেন দুই দলের অধিনায়কই। প্যাট্রিয়টস অধিনায়ক জেসন হোল্ডার বলেন, আম্পায়ারদের জন্য এটি আরও সতর্ক ও দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি বার্তা। তার মতে, একজন খেলোয়াড় মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাকে আবার ফিরিয়ে আনার দৃশ্য ক্রিকেটের জন্য ভালো দেখায় না।
অন্যদিকে ট্রাইডেন্টস অধিনায়ক ক্রিস গ্রিন বলেন, ম্যাচের পরিস্থিতি আম্পায়াররা ভালোভাবে সামলাতে পারেননি। একজন খেলোয়াড় মাঠ থেকে বেরিয়ে আবার ফিরে আসার ঘটনাটি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সুবিধা পাওয়া চার্লস বিষয়টি আম্পায়ারদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, কিছু বিতর্ক খেলার উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আম্পায়ারদেরই।