সেরাভালের সান মারিনো স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে নতুন এক অধ্যায়। ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, আর সেই জয়ের মঞ্চে ছিল আক্রমণাত্মক ফুটবল, কৌশলগত সাহস এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা।
নতুন কোচ টমাস ডুলির অধীনে প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারিয়েছে সান মারিনোকে। শুধু ফল নয়, খেলার ধরনও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শুরু থেকেই বাংলাদেশ রক্ষণাত্মক মানসিকতা পরিহার করে ৪-৩-৩ ফরমেশনে মাঠে নামে এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।
মাঝমাঠে জামাল ভূঁইয়ার নেতৃত্বে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে বাংলাদেশ। আক্রমণভাগে রফিকুল ইসলাম, শেখ মোরছালিন ও ফাহিম আহমেদের গতিময় ফুটবল সান মারিনোর রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে। ম্যাচে ৫৪ শতাংশ সময় বলের দখল রাখা এবং ২৪৪টি সফল পাস বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলেরই প্রতিফলন।
বাংলাদেশের প্রথম গোল আসে ১৯ মিনিটে। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে ডিফেন্ডার তপু বর্মণ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে শারীরিক লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ার যে ধারণা দীর্ঘদিন ধরে ছিল, এ ম্যাচে সেটিই ভেঙে দেয় বাংলাদেশ।
তবে ৩১ মিনিটে জিয়াকোপেত্তির গোলে সমতায় ফেরে সান মারিনো। বিরতিতে ম্যাচ ১-১ সমতায় থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে বাংলাদেশ। কোচ ডুলি একসঙ্গে ছয়টি পরিবর্তন এনে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেন। বদলি খেলোয়াড়দের হাই-প্রেসিং কৌশল সান মারিনোর রক্ষণকে ক্রমাগত চাপে রাখে।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ৮৬ মিনিটে আবারও নায়ক হয়ে ওঠেন তপু বর্মণ। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে তাঁর নেওয়া হেড বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে। দুটি গোলই এসেছে তপুর মাথা থেকে, যা তাকে ম্যাচের অবিসংবাদিত সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
রক্ষণেও ছিল বাংলাদেশের দৃঢ়তা। ম্যাচজুড়ে ৩৪ বার বল পুনরুদ্ধার, ১২টি সফল ট্যাকল এবং ২০টি ক্লিয়ারেন্স দলটির শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগের প্রমাণ দেয়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লিড ধরে রাখার লড়াইয়ে ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড়দের উল্লাসে ফুটে ওঠে ঐতিহাসিক এক জয়ের আনন্দ। এটি শুধু ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়ই নয়, বরং নতুন কোচের দর্শন ও দলের সামর্থ্যের সফল বাস্তবায়নেরও এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এই জয় ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর আগে বাংলাদেশ ফুটবলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।