অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে মাকড়সার মতো দেখতে এক বিশাল ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিম্বারলি অঞ্চলে অবস্থিত এই কাঠামোর নাম ‘স্পাইডার ক্রেটার’। দেখতে অদ্ভুত হলেও বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোটি কোটি বছর আগে উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুর আঘাতে তৈরি একটি বিশাল গর্তের অবশেষ।
নাসার ল্যান্ডস্যাট ৯ উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে কাঠামোটির স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে। লাল পাথর ও সবুজ গাছপালার বৈপরীত্যের মধ্যে মাকড়সার মতো ছড়িয়ে থাকা এর আকৃতি সহজেই নজর কাড়ে।
স্পাইডার ক্রেটার প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১১ কিলোমিটার প্রশস্ত। এর কেন্দ্রীয় অংশ প্রায় ৪ কিলোমিটার বিস্তৃত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ৬০ কোটি থেকে ৯০ কোটি বছর আগে মহাকাশ থেকে আসা কোনো বস্তুর আঘাতে এটি তৈরি হয়েছিল। তবে ঠিক কখন ঘটনাটি ঘটেছিল, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
দুর্গম ও রুক্ষ ভূখণ্ডে অবস্থিত হওয়ায় সরাসরি সেখানে পৌঁছানো কঠিন। ফলে স্যাটেলাইটের ছবিই কাঠামোটিকে পর্যবেক্ষণের অন্যতম কার্যকর উপায়।
১৯৫০-এর দশকে কাঠামোটির সন্ধান পাওয়া গেলেও দীর্ঘদিন এর উৎপত্তি নিয়ে রহস্য ছিল। প্রথম দিকে একে আগ্নেয়গিরির কারণে সৃষ্ট কাঠামো বলে মনে করা হয়েছিল। পরে ভূতত্ত্ববিদেরা শিলার মধ্যে বিশেষ ধরনের ফাটল ও বিকৃতির চিহ্ন শনাক্ত করেন, যা উল্কাপিণ্ডের আঘাতের তত্ত্বকে শক্তিশালী করে।
এসব ফাটল ‘শ্যাটার কোন’ নামে পরিচিত। উচ্চগতিতে কোনো মহাজাগতিক বস্তু আঘাত হানলে সৃষ্ট তীব্র চাপতরঙ্গের কারণে শিলায় এ ধরনের বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে। বেলেপাথরের কোয়ার্টজ ও জিরকন স্ফটিকেও আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের আরও কয়েকটি কাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২২৯ কোটি বছর আগে তৈরি ইয়ারাবুবা এবং প্রায় ৫৯ কোটি বছর আগের অ্যাক্রামান ক্রেটার উল্লেখযোগ্য।
স্পাইডার ক্রেটারের অদ্ভুত আকৃতি শুধু প্রাকৃতিক বিস্ময়ই নয়, বরং পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাস ও মহাজাগতিক সংঘর্ষের প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।



মন্তব্য করুন