https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় ২৪ জুন ভোরে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ২৯৫ জন নিহত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এ জোড়া ভূমিকম্পে দেশটির ইতিহাসে ১২৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি সৃষ্টি হয়েছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৬.৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা দিতে ৯০০ মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন। অনেকেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির কারণে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো।
নাসার স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে, যা সরকারি প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি দ্রুত একটি স্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের ঘাটতি এবং চিকিৎসকদের দেশত্যাগের কারণে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কারাকাসের হাসপাতাল দেল ওয়েস্তে ড. হোসে গ্রেগরিও হার্নান্দেজের ট্রমা ইউনিটের প্রধান ইউজেনিও কোভা বলেন, আহতদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। ধ্বংসস্তূপের নিচে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা অনেক রোগীর অবস্থাও জটিল হয়ে উঠছে।
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য জাতিসংঘের মানবিক সংস্থার মুখপাত্র ভেরোনিক দুরো জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ৯০০ সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে। মানবিক সহায়তাবাহী বিমান অবতরণের সুবিধার্থে মার্কিন বাহিনী কারাকাসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ে মেরামত করেছে। পাশাপাশি উপকূলে নৌবাহিনীর জাহাজ এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আরও ১০০ সদস্য উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন।
এ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ ও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার জন্য ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। তবে ইউএনডিপির মূল্যায়ন অনুযায়ী, মোট ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় এ সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
এরই মধ্যে ইকুয়েডর, ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ৫০টি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা কয়েকটি দেশের উদ্ধারকারীরাও মানবিক এ অভিযানে অংশ নিয়েছে।
১৯০০ সালের সান নারসিসো ভূমিকম্পের পর এটিই ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৬ থেকে ৭.৭ এবং এতে রাজধানী কারাকাসসহ উত্তর উপকূলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছিল।