https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর ইয়েমেনের রাজধানী সানা হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ থেকে পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। সোমবার এ ঘোষণা দেন ইয়েমেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সামির আল-সাবরি।
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল ইয়েমেন টিভিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, সানা পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ রয়েছে, তবে সেগুলো এখনই প্রকাশ করা হবে না।
একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আল নুজাইলি। তিনি বলেন, হুথিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে ইয়েমেনকে মুক্ত করা এবং সানাকে সব ইয়েমেনবাসীর রাজধানী হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এখন তাদের সুস্পষ্ট লক্ষ্য।
সরকারের এ উদ্যোগে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নুজাইলি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের ইয়েমেনে সব নাগরিকের অংশীদারত্ব থাকবে। প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা কিংবা একই দেশের নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্যের কোনো স্থান থাকবে না।
ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে। এর এক বছর পর ২০১৫ সালে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। সে সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনর্বহাল করতে একই বছর ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। দেশটির সামরিক বাহিনী এই সরকারের অধীন এবং সরকারটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় আট বছরের সংঘাতের পর ২০২২ সাল থেকে হুথি ও প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের মধ্যে কার্যত একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চলছিল। তবে ২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর আঞ্চলিক সংঘাতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে হুথিরা। তারা ইসরায়েল এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালায়।
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের কারণে তেহরান আগের মতো হুথিদের সহায়তা দিতে পারছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল পুনর্দখলে গত জুলাই থেকে নতুন করে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী।