https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
নতুন বাড়িতে ওঠার কয়েক মাসের মধ্যেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মালায়ালম অভিনেত্রী রানি পদ্মিনী। ১৯৮৬ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে মাকে নিয়ে ভারতের আন্না নগরের একটি বাংলোয় থাকতেন তিনি। সেখানেই ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় রানি ও তার ৪৬ বছর বয়সী মা ইন্দিরাকুমারিকে। ঘটনার প্রায় চার দিন পর বাড়ির বাথরুম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১৯৮৬ সালের ১৯ অক্টোবর এক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ও তার বন্ধু বাড়িটিতে গিয়ে কাউকে না পেয়ে সন্দেহ করেন। বাড়ির পেছনের একটি দরজা খোলা থাকায় ভেতরে ঢুকে তারা ঘর তছনছ অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে বাথরুম থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে দ্রুত সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে পরিবারের গাড়িচালক জি জেবারাজের নাম। হত্যাকাণ্ডের পর রানি পদ্মিনীর নিসান গাড়িটিও নিখোঁজ ছিল। জেবারাজ মাত্র ১১ দিন আগে ওই পরিবারের কাজে যোগ দিয়েছিলেন। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পরিবারের চলাফেরা ও দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে তার ভালো ধারণা ছিল।
পুলিশের অভিযোগ ছিল, অর্থ ও মূল্যবান জিনিস লুটের উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। এ ঘটনায় জেবারাজ ছাড়াও পরিবারের আরও দুই কর্মী লক্ষ্মী নরসিমহন ও গণেশনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ছিল, ইন্দিরাকুমারির সঙ্গে জেবারাজের বিরোধও হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যার পরদিন এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে জেবারাজ আবার ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। তারা সেখানে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেন। ফলে হত্যার পরও তিনি ঘটনাস্থলে ফিরেছিলেন কি না, তা নিয়েও ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
রানি পদ্মিনী ‘সংঘর্ষম’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন। পরে মালায়ালমের পাশাপাশি তামিল, তেলুগু, কন্নড় ও হিন্দি সিনেমাতেও অভিনয় করেন। ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই তার জীবন থেমে যায়।
১৯৮৯ সালে জেলা আদালত তিন অভিযুক্তকেই মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে উচ্চ আদালতে রায়ে পরিবর্তন আসে। জেবারাজের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়, আর লক্ষ্মী নরসিমহনও শেষ পর্যন্ত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। গণেশন খালাস পাওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান।