সামাজিক মাধ্যম এখন শুধু যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম নয়, প্রতারকদেরও বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নানা ধরনের অনলাইন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার কৌশলও আরও জটিল হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ডিপফেক ছবি ও কণ্ঠ তৈরি করে পরিচিতজন সেজে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে আসা যেকোনও লিংক, অফার বা বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এখন অত্যন্ত জরুরি। নিচে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন কয়েকটি ভাইরাল প্রতারণার ধরন ও সেগুলো থেকে বাঁচার উপায় তুলে ধরা হলো।
ফিশিং : অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো লিংকে ক্লিক করলে ব্যবহারকারী ভুয়া ওয়েবসাইটে চলে যেতে পারেন। সেখানে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্য বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা হয়। তাই কোনও লিংক খোলার আগে ওয়েব ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।
রোমান্স স্ক্যাম : অনলাইনে বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে অনেক প্রতারক পরে আর্থিক সাহায্য চায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে পরিচিত হলেও অপরিচিত কাউকে কখনোই টাকা পাঠানো বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া উচিত নয়।
ভুয়া চাকরির অফার : ‘কম কাজ, বেশি বেতন’ ধরনের চাকরির বিজ্ঞাপন সামাজিক মাধ্যমে খুবই সাধারণ। আবেদন করার আগে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও তথ্য যাচাই করা জরুরি। কারণ এসব অফারের আড়ালে পরিচয় চুরি বা তথ্য সংগ্রহের ফাঁদ থাকতে পারে।
ভুয়া অনলাইন শপিং : উৎসবের সময় কম দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে অনেক ভুয়া ই-কমার্স সাইট সক্রিয় হয়। এসব সাইট ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। তাই অপরিচিত বা অবিশ্বস্ত সাইট থেকে কেনাকাটা না করাই নিরাপদ।
কুইজ ও গেম : ‘আপনার ভবিষ্যৎ কেমন?’ বা ‘আপনার প্রিয় রং কী?’—এ ধরনের কুইজ অনেক সময় নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহের কৌশল হতে পারে। তাই এসব কুইজে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
ভুয়া দাতব্য সংস্থা : দুর্যোগ বা মানবিক সংকটের সময় অনেক প্রতারক ভুয়া তহবিল সংগ্রহ অভিযান চালায়। অনুদান দেওয়ার আগে সংস্থা বা ফান্ডরেইজারের সত্যতা যাচাই করা উচিত।
বিনিয়োগ প্রতারণা : অল্প বিনিয়োগে দ্রুত লাভের প্রতিশ্রুতি সাধারণত প্রতারণার অন্যতম লক্ষণ। অপরিচিত কারও বিনিয়োগ প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার আগে বিস্তারিত যাচাই করা জরুরি।
ভুয়া ব্র্যান্ড সহযোগিতা : বিশেষ করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সারদের লক্ষ্য করে ভুয়া ব্র্যান্ড সহযোগিতার প্রস্তাব পাঠানো হয়। এসব বার্তায় থাকা লিংক ফিশিংয়ের মাধ্যম হতে পারে। চুক্তির আগে ভিডিও কলে পরিচয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফলোয়ার ও লাইক বিক্রির ফাঁদ : অল্প টাকায় হাজার হাজার ফলোয়ার বা লাইক দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনেক প্রতারক ব্যাংক বা কার্ড তথ্য চুরি করে। সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা বাড়াতে স্বাভাবিক উপায়ই সবচেয়ে নিরাপদ।