ঢাকা
২৯ আগস্ট ২০২৬

হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় শরীরে যে পরিবর্তনগুলো দেখা দিতে পারে

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬   ৮ বার পঠিত
হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় শরীরে যে পরিবর্তনগুলো দেখা দিতে পারে

ছবি: -সংগৃহীত

শরীরের বিপাকক্রিয়া, ঘুম, মেজাজ, প্রজনন, বৃদ্ধি ও শক্তির মাত্রাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে হরমোনের ভূমিকা রয়েছে। তাই হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্যে পরিবর্তন হলে শরীরে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই হরমোনের সমস্যা হয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। একই ধরনের উপসর্গের পেছনে অন্য শারীরিক বা মানসিক কারণও থাকতে পারে।

বারবার মেজাজের পরিবর্তন

কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই মেজাজ খারাপ, বিরক্তি, উদ্বেগ বা আবেগের দ্রুত পরিবর্তন হলে তা হরমোনের ওঠানামার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক, গর্ভাবস্থা ও মেনোপজের সময় এমন পরিবর্তন বেশি দেখা যেতে পারে। তবে মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা ও অন্যান্য শারীরিক কারণেও মেজাজের পরিবর্তন হতে পারে।

বিশ্রামের পরও ক্লান্তি

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও দীর্ঘদিন ক্লান্তি, দুর্বলতা বা কাজে মনোযোগের সমস্যা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা, ঘুমের ব্যাঘাতসহ বিভিন্ন কারণের পাশাপাশি কিছু হরমোনজনিত সমস্যাও এর জন্য দায়ী হতে পারে।

অস্বাভাবিক চুল পড়া

স্বাভাবিকের তুলনায় হঠাৎ বেশি চুল পড়তে শুরু করলে কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। থাইরয়েডের সমস্যা বা হরমোনের পরিবর্তনের পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, বংশগত কারণ, কিছু ওষুধ ও মাথার ত্বকের সমস্যার কারণেও চুল পড়তে পারে।

হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া

খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও দ্রুত ওজন বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কিছু হরমোনজনিত সমস্যা, বিশেষ করে থাইরয়েডের কার্যকারিতার পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে শুধু ওজন বাড়াকে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার নিশ্চিত লক্ষণ বলা যায় না।

ঘুমের ধরনে পরিবর্তন

হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে ঘুমের সমস্যারও সম্পর্ক থাকতে পারে। ঘুম আসতে দেরি হওয়া, ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা পর্যাপ্ত ঘুমের পরও দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব দেখা দিতে পারে। তবে মানসিক চাপ, জীবনযাপন ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

একটি-দুটি উপসর্গ দেখা দিলেই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে, দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রয়োজনে চিকিৎসক উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন। নিজের ইচ্ছায় হরমোনের ওষুধ বা কোনো ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ ব্যক্তি ও সমস্যাভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই শরীরের পরিবর্তনকে শুধু হরমোনের সমস্যা হিসেবে না দেখে সঠিক কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।