https://timenewsbangla.com

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, এখনো এক হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার ভোরে নেপাল পুলিশ জানায়, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক থাকতে পারেন।
গত ২৬ আগস্ট বুধবার ভোতি কোশি নদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পর রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। একই সময়ে সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং জেলাতেও বন্যার প্রভাব পড়ে। প্রবল স্রোতের সঙ্গে কাদা, পাথর ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ভেসে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে দেয়।
নেপাল ও চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া ও তিব্বতের গিরং এলাকায় মোট ১ হাজার ৩৮৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে নেপালে ৮২৬ জন এবং তিব্বতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের বড় একটি অংশ বিদেশি নাগরিক। নেপালে নিখোঁজ বিদেশির সংখ্যা প্রায় ৫০০ এবং তিব্বতে প্রায় ২৬০ জন বলে জানা গেছে।
উদ্ধার অভিযানে নেপালের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের কাছে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকর্মীরা কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া শহর থেকে বৃহস্পতিবার সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একজন ছিলেন দিবগা তামাং। তাকে আরও তিনজনের সঙ্গে আকাশপথে নুয়াকোটের একটি সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয়।
উদ্ধারের পর নিজের স্বজনদের হারানোর কথা বলতে গিয়ে তামাং বলেন, আমার পরিবার, আপনজন বলতে আর কেউ নেই। আমার জন্য অপেক্ষা করার আর কেউ নেই। সব কিছু শেষ। সবাই চলে গেছে।