https://timenewsbangla.com

টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি যাচাই এবং এ বিষয়ে জাতীয় মান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার জাতীয় সংসদে এক জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, একটি বেসরকারি গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক টক্সিন থাকার দাবি করা হয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। তবে গবেষণাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উৎস বা তা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি।
বিষয়টি যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও ভোক্তা অধিকার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে বিএসটিআই। কমিটির তদারকিতে বাজার ও উৎপাদনকারী কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য বিসিএসআইআরে পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বিএসটিআইয়ের বিদ্যমান মানদণ্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি নিষিদ্ধ বা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষাগার সুবিধাও সংস্থাটির ছিল না। এখন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং জাতীয় মান নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিষিদ্ধ, উপাদানের স্পষ্ট ঘোষণা বাধ্যতামূলক এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের পরীক্ষাপদ্ধতি জাতীয় মানে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিসিএসআইআরের পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় মান হালনাগাদ করা হবে। একই সঙ্গে কোনো পণ্যে অননুমোদিত উপাদান বা নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বিএসটিআইয়ের সাম্প্রতিক তদারকিতে মানদণ্ড না মানায় ১০টি খাদ্যপণ্য ও ৮টি প্রসাধনী বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক মান নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোরভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।