https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও বনজীবী ও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
পাস-পারমিট চালু হওয়ায় জেলে-বাওয়ালিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে শুরুতে বনে যাতায়াত কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত দুই দিনে ৫০৪টি পাস-পারমিটের মাধ্যমে ১ হাজার ৪৬৫ জন জেলে-বাওয়ালি মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন।
সাতক্ষীরা রেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে প্রায় ৩ হাজার বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) নবায়ন করা হয়েছে।
একই সময়ে পাঁচটি পাসের মাধ্যমে ৪৮ জন পর্যটকও সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন। পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় পর্যটক নৌকার মাঝি ও পর্যটকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শ্যামনগরের জেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পাস বন্ধ থাকায় তাদের কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। এখন পাস পাওয়ায় সুন্দরবনে মাছ ধরে সংসার চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে বনের ভেতরে বনদস্যুদের নিয়ে কিছুটা আতঙ্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মশিউর রহমান জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন দিয়ে মাছ আহরণ ও ইকোট্যুরিজমের জন্য পাস-পারমিট দেওয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলে-বাওয়ালি ও পর্যটকদের সুন্দরবনে প্রবেশ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলেদের নিরাপত্তায় বনবিভাগ ও কোস্টগার্ডের যৌথ টহল অব্যাহত রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন বিভাগের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
বনজীবীদের পাশাপাশি পর্যটকদের উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করেছে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি এ অঞ্চলের পর্যটন কার্যক্রমও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।