https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণ করেছেন জোটের নেতারা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনের সভাপতি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ ঘোষণাটি প্রকাশ করেন।
ঘোষণায় কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ কঠোর নিন্দা জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতিকে সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা এবং সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে ঘোষণার ভাষা নির্ধারণে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানে ভিন্নতা থাকায় চূড়ান্ত ঐকমত্য নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে কয়েক দিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর দুই দেশই ঘোষণার ভাষায় সম্মত হয়।
যৌথ ঘোষণায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও ডব্লিউটিওতে সংস্কারের পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদে ব্রাজিল ও ভারতের আরও বড় ভূমিকার আকাঙ্ক্ষার প্রতি চীন ও রাশিয়া সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে নিরাপদ বাণিজ্য ও নাবিকদের সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে শুল্ক কমানো এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্রিকসের প্রভাব বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
বিশ্বের ৪০ শতাংশের বেশি জনসংখ্যা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে।