https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে এভিয়েশন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুর্মিটোলায় ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
বিমানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক হাবে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, উন্নত যাত্রী ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত এবং পর্যটন সুবিধা গড়ে তুলতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে।
এভিয়েশন খাতের ৪২ বছরের পুরোনো বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য যেসব নিয়ম বাধা তৈরি করছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। নতুন বিধিমালা তৈরিতে এয়ারলাইনগুলোর প্রতিনিধিদের মতামতও নেওয়া হবে।
দেশে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বড় ধরনের মেরামতের জন্য উড়োজাহাজ ভারত বা সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হয়। ভবিষ্যতে দেশে এ ধরনের সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে। বিমানের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতাও দূর করা হবে।
বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে লাগেজ পেতে যাত্রীদের দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। বর্তমানে সেই সময় অনেক কমেছে। সাম্প্রতিক ব্যবস্থাপনায় কোনো যাত্রীকে লাগেজের জন্য ৪০ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বলেও জানান তিনি। নিরাপত্তা ও সেবার মান বাড়াতে বডি-ওন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকার প্রকল্পটি বাতিল করলেও বর্তমান সরকার তা পুনরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে জাপানের সঙ্গে ইতোমধ্যে পাঁচ দফা বৈঠক হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে এ সক্ষমতা ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি হবে।
বাংলাদেশে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে খাতটি পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রী বলেন, নদী, সমুদ্র ও বনভূমিসহ দেশের পর্যটন সম্পদকে কাজে লাগাতে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, এভিয়েশন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে শুধু বড় বিমানবন্দর নয়, দক্ষ সেবা, প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়, আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং যাত্রীবান্ধব পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।