https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই আন্তর্জাতিক যাত্রীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য অপরাধী ও নিরাপত্তাঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ও বিভিন্ন দেশীয়-আন্তর্জাতিক ডেটাবেজের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হবে এই স্মার্ট ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাংলাদেশের আকাশসীমায় পৌঁছানোর আগেই যাত্রীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। ইমিগ্রেশন তথ্যের সঙ্গে সরকারি ওয়াচলিস্ট, ইন্টারপোলের রেকর্ড, নিষেধাজ্ঞার তালিকা ও অনুমোদিত আন্তর্জাতিক ডেটাবেজ মিলিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা হবে। ফলে কোনো অপরাধী দেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিমান থেকে নামার পরপরই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
নতুন ব্যবস্থায় ফেসিয়াল রিকগনিশন, ১০ আঙুলের ছাপ, আইরিস শনাক্তকরণ, ই-গেট, কিয়স্ক ও স্পর্শহীন যাত্রীসেবার মতো প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিমানবন্দরের পাশাপাশি স্থল, সমুদ্র ও রেলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টও এর আওতায় আসবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম, প্যাসেঞ্জার নেম রেকর্ড, ই-ভিসা ও এআই-চালিত ডেটা বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করার কথা রয়েছে। এ জন্য শাহজালালসহ দেশের বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় শত কোটি টাকার আধুনিক ক্যামেরা ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদক পাচার, মানব পাচার, অবৈধ অভিবাসন, জাল ভ্রমণ নথি ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হবে। বিশেষ করে টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়ি, বেনাপোল, আখাউড়া, তামাবিলসহ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তে এআই ক্যামেরা, লাগেজ ও যানবাহন স্ক্যানার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করে অপরাধীদের দেশে প্রবেশের আগেই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা।