https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আসামিরা সবাই পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলায় আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সহিংসতায় উসকানি, অর্থের জোগান এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব অভিযোগ তারা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং আসামিদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের খালাস চেয়েছেন।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঠে নামিয়ে সহিংসতায় ভূমিকা রেখেছেন। যুক্তিতর্কে ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন বক্তব্য এবং ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তার কথোপকথনের অডিওর বিষয়ও তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাদের মক্কেলরা কাউকে হত্যার নির্দেশ দেননি এবং কোনো ‘কমান্ডিং পজিশনে’ ছিলেন না। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার আইনজীবী তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সহিংসতায় অংশগ্রহণের প্রমাণ না থাকার দাবি করে খালাস চান।
২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় খরচে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর যুক্তিতর্ক শুরু হয় এবং ১৭ আগস্ট তা শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় সাত আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত জানা যাবে।