আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধি এবং কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিত উপেক্ষা করে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে তেলের দাম কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭৮ দশমিক ৯৭ ডলারে উঠেছে। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার্সের দামও ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪১৮ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।

বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান টান বলেন, ফেডের কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিত স্বর্ণের দামে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং ফেডের সুদের হার বাড়ানোর চক্র সীমিত হতে পারে—এমন প্রত্যাশা এবং তেলের দাম কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে সাময়িক স্বস্তি তৈরি হয়েছে।

সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সুদ বা ফলন পাওয়া সম্পদের আকর্ষণ বাড়ে, ফলে স্বর্ণের চাহিদায় চাপ তৈরি হতে পারে।

এর আগে বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ আগামী মাসগুলোতে আরও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। তবে গোল্ডম্যান স্যাকসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কঠোর মুদ্রানীতির প্রভাব স্বর্ণের চূড়ান্ত মূল্য কমানোর পরিবর্তে এর স্বল্পমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির গতি কমানোর মাধ্যমে বেশি প্রতিফলিত হতে পারে।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৭ দশমিক ০৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮১৪ দশমিক ৫৭ ডলার। আর প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৩১ দশমিক ৯৫ ডলারে উঠেছে।