ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর চাপ তৈরি করল যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার নতুন একটি বিলে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বিরল দ্বিদলীয় সমর্থনে বিলটি পাস হওয়ার কয়েক দিন পর শুক্রবার এতে স্বাক্ষর করেন তিনি।
‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের আইনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা, ধনকুবের, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকারও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় পাঁচ ক্রেতার ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ট্রাম্পকে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ দুই ক্রেতা চীন ও ভারতের ওপর। পাশাপাশি ইরানের জ্বালানি ও অস্ত্র খাতেও নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে।
গত মাসে সিনেটে এবং বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হয়। প্রতিনিধি পরিষদে ৫৮ জন ডেমোক্র্যাট দলীয় অবস্থান অতিক্রম করে বিলটির পক্ষে ভোট দেন। দুই বছরের বেশি সময় পর ইউক্রেন ইস্যুতে এটি কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হওয়া প্রথম বড় আইন।
আইনটির সমর্থকদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের জোগান কমিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনায় বসতে চাপ দেওয়া হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও আইনটিকে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে আইনের বিরোধিতাও রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিস সতর্ক করে বলেছেন, নতুন শুল্কের কারণে মার্কিন পরিবারগুলোর ব্যয় বাড়তে পারে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার বিধানেও কিছু ফাঁক রয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

মন্তব্য করুন