ইয়েমেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘাতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি জানান, শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে মারিব সিটির কাছে সংঘাত চলে। এ সময় হুথিদের নয়টি সামরিক যানও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আল-হাতেমির ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাতের পাশাপাশি মারিব প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের সামরিক স্থাপনা ও যোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের বিমান বাহিনী। তবে সরকারি বাহিনীর হতাহতের বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।
ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে মারিব একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা। হুথিরা প্রদেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করলেও এখনো মারিব সিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। শহরটি দখলের জন্য অতীতে একাধিক অভিযান চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং ২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘাত অব্যাহত ছিল। ২০২২ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও সম্প্রতি আবার সংঘাত বেড়েছে।
এদিকে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সানা, আমরান ও হোদেইদায় অন্তত ৫০ জন হুথি যোদ্ধা ও কর্মকর্তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে হুথিদের প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিয়ে আল-হাতেমির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তিনি দাবি করেছেন, হুথিরা নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করছে না এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিদিন কয়েক শ যোদ্ধা নিহত হচ্ছে।


মন্তব্য করুন