যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকে বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ইরান ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক উত্তেজনার পর দুই দেশ এখন পারস্পরিক স্বার্থের জায়গাগুলোতে সহযোগিতার পথ খুঁজছে।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে শি জিনপিংয়ের। এক দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এটি তার প্রথম সফর। এর মাত্র চার মাস আগে বেইজিং সফর করেছিলেন ট্রাম্প।
সফরের আগে নিউইয়র্কে বৈঠক করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত দুর্ঘটনা সম্পর্কে দুই দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের একটি ব্যবস্থা এবং আনুষ্ঠানিক এআই সংলাপ শুরুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম। মার্কিন শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, উন্নত চিপ ও চিপ তৈরির সরঞ্জামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ নেই।
বৈঠকে বিরল খনিজ ও কাঁচামাল সরবরাহও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে। সমালোচকদের অভিযোগ, চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসব পণ্যের সরবরাহ প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি। গত শরতে স্বাক্ষরিত বুসান বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ আগামী ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।
এ ছাড়া ইরান ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে। ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল আমদানি করে চীন। তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও চীনের প্রধান ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এখনো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি।
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে চীনের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও সফরে অংশ নিতে পারে। বড় মতপার্থক্যগুলো পুরোপুরি সমাধান না হলেও, অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে দুই দেশ।

মন্তব্য করুন