জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। রাষ্ট্রপক্ষ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।

মামলার অপর আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই পলাতক।

হানিফসহ আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগকে ব্যবহারের বিষয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় বৈঠক করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ ও ষড়যন্ত্র এবং ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, আসামিদের রাজনৈতিক নির্দেশনা, পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটে।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গত ১১ মে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক শুরু করে এবং ৫ অক্টোবর তা শেষ করে। এরপর আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।

প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আজগর আলীর দেওয়া বক্তব্যসহ বিভিন্ন সাক্ষ্য ও নথিতে আসামিদের সমন্বয়, নির্দেশনা ও আন্দোলন দমনের পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে এসেছে।

গত বছরের ৬ অক্টোবর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ২ নভেম্বর হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে এখন রায়ের অপেক্ষায় মামলাটি।