হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আচারের বয়ামের ভেতর লুকানো অবস্থায় হীরা, প্লাটিনাম, রুবি ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার জব্দ করেছে শুল্ক কর্মকর্তারা। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় জনি রহমান নামের এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।
রোববার বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
এনবিআর জানায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম ও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত সি-শিফটের কর্মকর্তারা নজরদারি শুরু করেন। কলকাতা থেকে আসা একটি ফ্লাইটে স্বর্ণ চোরাচালানের সম্ভাব্য তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে তৎপরতা বাড়ানো হয়।
একপর্যায়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় জনি রহমানের ব্যাগ স্ক্যান করা হয়। এতে আচারের বয়ামের ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে ব্যাগ তল্লাশি করে বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার, হীরা, প্লাটিনাম ও মূল্যবান পাথর উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে হীরা বসানো ১৮ ক্যারেটের ৩৮৯টি স্বর্ণের আংটি, যার মোট ওজন ৪৭৮ গ্রাম। এ ছাড়া ৯৫০ ক্যারেটের ১৫১টি প্লাটিনামের আংটি, যার ওজন ৪৫০ গ্রাম। উদ্ধার করা অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে হীরা বসানো সাদা স্বর্ণের তিনটি অলংকার, হীরা বসানো দুটি রুপার আংটি, পাঁচটি স্বর্ণের লকেট, একটি স্বর্ণের চেইন এবং ৪৭২টি স্বর্ণের নাকফুল।
এ ছাড়া ৪৫ ক্যারেটের হীরা, পোখরাজ, রুবি ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর মিলিয়ে মোট ৭২০টি পাথর এবং ২৩টি জুয়েলারি সার্টিফিকেট কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা পণ্যগুলোর সর্বমোট ওজন ১ হাজার ৫৪ গ্রাম।
শুল্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর প্রত্যয়নভিত্তিক আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় জনি রহমানের বিরুদ্ধে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিমের পক্ষ থেকে থানায় ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

মন্তব্য করুন