দেশের বিমানবহর ২০০টির বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতের যাত্রী চাহিদা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য সামনে রেখে ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এসব উড়োজাহাজ দেশে আসবে এবং ২০৩৬-৩৭ সাল পর্যন্ত বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। নগরের সারিন্দা সবারি রিসোর্টে আয়োজিত ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিমানবহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনা করেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলো একসময় পুরোনো হয়ে যাবে। তখন দেশের আকাশপথের যোগাযোগ সচল রাখতে নতুন উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি চাই এই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি।’ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের শক্তিশালী বিমানবহরের কথা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারে, সেই প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, কানাডা, নিউইয়র্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দেশের পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।
এ বিষয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বর্তমান বিমানবন্দরে ভবিষ্যতে যাত্রী ও উড়োজাহাজের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা বিবেচনায় বড় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রয়োজন। ত্রিশালে বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের মতো বড় অবকাঠামো নির্মাণে যথাযথ পরিকল্পনা ও সময় প্রয়োজন। এ কারণে বিষয়টি ধৈর্যের সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।
এ ছাড়া ময়মনসিংহে শিশুপার্ক স্থাপন, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং নেত্রকোনার বিরিশিরিকে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। শিশুপার্কের ভিত্তিপ্রস্তর ঈদের আগে স্থাপনের চেষ্টা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শৃঙ্খলা ও মাদক থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। পরে সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষ হয়।

মন্তব্য করুন