ভারতের বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের লক্ষ্য সরকার পতন নয়, বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা—এমন মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সহিংসতার সঙ্গে ভারতের পরিস্থিতির তুলনা করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন থারুর। ভারতের কেন্দ্রীয় সংসদবিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজুর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশও নয়, ফ্রান্সও নয়। বিরোধীরা সহিংস আন্দোলনে বিশ্বাস করেন না; বরং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমে দাবি তুলে ধরতে চান।

থারুর বলেন, ফ্রান্সে বাস ও পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগের মতো সহিংস ঘটনাকে তারা কখনোই সমর্থন করবেন না। তিনি নিজেও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বলে জানান।

কংগ্রেসের এই নেতা বলেন, বিরোধীদের আন্দোলনকে সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। তাদের মূল দাবি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।

ভারতের ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন থারুর। তাঁর অভিযোগ, অনিয়মপূর্ণ ও আংশিক বেআইনি প্রক্রিয়ায় এসব নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা। তাঁর মতে, বিষয়টি সংবিধান ও নির্বাচনের স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

গণতন্ত্র রক্ষায় নাগরিকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থারুর বলেন, গণতন্ত্র কারও দেওয়া উপহার নয়; সাধারণ নাগরিকেরাই এর রক্ষক। তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, নির্বাচন কমিশনসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। বরং এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে দায়িত্ব পালন করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন, ভারতবিরোধী গোষ্ঠী ও কিছু রাজনীতিক তরুণদের উসকে দিয়ে সহিংসতা ছড়ানোর ষড়যন্ত্র করছেন। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মতো পরিস্থিতি ভারতেও তৈরির চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তবে থারুরের বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধীদের বর্তমান কর্মসূচির মূল লক্ষ্য সরকার পতন নয়, বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা।