বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুরহস্যে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার রাতে তাহসিফ ও তাঁর জুনিয়র বন্ধু দীপ একসঙ্গে উত্তরা থেকে মোটরসাইকেলে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। কিন্তু সেখান থেকে বাসায় ফেরেন শুধু দীপ। পরে তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ।
শুক্রবার দুপুরে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের ইন্সপেক্টর সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুজন সেখানে কিছু সময় অবস্থান করেন। একপর্যায়ে তাহসিফকে খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন দীপ। পরে একাই মোটরসাইকেল নিয়ে বাসায় ফিরে যান। রাত আড়াইটার দিকে তিনি বাসায় পৌঁছান বলে জানিয়েছেন।
তবে কেন তাঁরা ওই এলাকায় গিয়েছিলেন, সেখানে কী ঘটেছিল এবং কীভাবে দুজন আলাদা হয়ে গেলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। দীপের বক্তব্য যাচাই করছে তদন্ত সংস্থা। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, দীপকে আটক করা হয়নি; ঘটনার বিস্তারিত জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যু হত্যা, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা—এ বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
একসঙ্গে বের হয়েছিলেন দুজন, কিন্তু ফিরলেন একজন। মাজার বস্তিতে সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, এখন সেই রহস্যের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।

মন্তব্য করুন